সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

নিরাপত্তার জালে ঢাকার চারপাশ

0

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ঘোষিত বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির নামে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সরকার। অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে ন্যূনতম ছাড় না দেওয়ার মনোভাব নিয়ে সাজানো হচ্ছে নিরাপত্তা বলয়। যার অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার ভেতর ও প্রবেশপথগুলোতে আজ বুধবার থেকেই কড়া নজরদারি শুরু হচ্ছে। আর আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রবেশপথগুলোতে যে কোনো ধরনের জমায়েত ঠেকাতে কাউকে দাঁড়াতেই দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি সামনে রেখে কয়েকদিন ধরে ঝটিকা মিছিল, হাতবোমা বা ককটেলের বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বৃহস্পতিবারের ‘কথিত’ ওই কর্মসূচি ঘিরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, ভয়েরও কারণ নেই। যে কোনো ধরনের অরাজকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। ‘সন্ত্রাসী’দের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এই কর্মসূচি ঘিরে অরাজকতা ঠেকাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেখলেই আইনের আওতায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষেরও সহায়তা চেয়েছে সরকার।

এ ছাড়া সারা দেশে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতার ঘটনাকে বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায়ও ১৩ নভেম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী, র্যাবের ডিজি এ কে এম শহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণার পর গত ৩ দিনে ঢাকায় অন্তত ১৮টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ছাড়াও অন্তত দুটি জায়গায় পুলিশকে লক্ষ্য করে এ হামলা হয়। গত শনিবার থেকে গত সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে ১০টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও গতকাল ভোরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা গেছেন বাসটির চালক।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেছেন, ককটেল নিক্ষেপ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বড় একটা অংশ ঢাকার বাইরে থেকে এসেছিল। অনেকে নাশকতা ঘটিয়ে দ্রুতই ঢাকার বাইরে চলে যাচ্ছে। বেশকিছু পথশিশুকেও ককটেল বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে মোটরসাইকেলে চড়ে যাতে ককটেল ছুড়ে বা গাড়িতে আগুন দিয়ে পালাতে না পারে, সেজন্য টহলের পাশাপাশি চেকপোস্টও বাড়ানো হয়েছে। নানা বেশে দায়িত্ব পালন করছেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। পুরনো নানা ভিডিও পোস্ট করে ১৩ নভেম্বর ঘিরে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব বন্ধে পুলিশের সাইবার ইউনিটগুলো কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র আরও জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩ নভেম্বর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। অরাজকতাকারীদের ন্যূনতম ছাড় না দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেশকিছু নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে, যার অংশ হিসেবে অপরিচিত কাউকে বাসাবাড়িতে আশ্রয় না দেওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি দেখভালের জন্য প্রতিটি থানাকে অবহিত করে এলাকায় নজরদারি ও স্থায়ী বাসিন্দাদের কাছ থেকে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে মেস, গেস্ট হাউস ও আবাসিক হোটেলগুলোতে যাতে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো অতিথি না রাখা হয়, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা চিহ্নিত করে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল নজরদারির আওতায় নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এসব হোটেলে এবং কিছু এলাকায় তাৎক্ষণিক অভিযানও চালানো হতে পারে। সড়কের পাশে বা পাম্পগুলোতে খোলা জ্বালানি বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অরিক্ষতভাবে যাতে বাস বা যে কোনো ধরনের গাড়ি না রাখা হয়, সেজন্য এরই মধ্যে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। পার্কিং স্পেসগুলোতে মালিক-শ্রমিকদের নিজ নিজ দায়িত্বে পাহারা দিতে বলা হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, নানা ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব বাসে অল্প যাত্রী থাকে, সেসব বাস টার্গেট করছে দুর্বৃত্তরা। এজন্য বিশেষ করে রাতে কম যাত্রী নিয়ে বাস চলাচলে চালক-মালিকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ঢাকায় মেট্রো রেল, কমলাপুর রেলস্টেশন, ট্রাইব্যুনাল-আদালতপাড়াসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন-কেপিআই) নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপির দায়িত্বশীল আরেক কর্মকর্তা বলেন, ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রবেশপথ গাবতলী, উত্তরার অদূরে টঙ্গী, আবদুল্লাহপুর, যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর, পোস্তগোলা, সদরঘাট, বছিলা-মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই আইনের আওতায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তা ছাড়া সেসব এলাকায় অহেতুক কাউকে ভিড় করতেও দেওয়া হবে না। তবে সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় নগরবাসীর যাতে ভোগান্তি বা হয়রানি না হয়, সে বিষয়টিও মাথায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভার বেশির ভাগ সময়জুড়ে ১৩ নভেম্বর নিয়ে আলোচনা হয়। এতে উঠে আসে, নাশকতাকারীরা অনেকেই সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করে থাকে। সীমান্ত দিয়ে বিস্ফোরক এবং অস্ত্র আসার তথ্যের বিষয়েও আলোচনা হয়। এজন্য দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়।

ওই সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশে যে কোনো ধরনের অরাজকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভূমিকা পালন করছে, শক্ত অবস্থানে আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাস্তার পাশে যে বিভিন্ন দোকানে তেল (জ্বালানি) বিক্রি হয়, এটা কিছুদিনের জন্য বন্ধ করা হবে। অনেক সময় এ তেল ব্যবহার করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তা ছাড়া মেট্রোরেল, রেলস্টেশন, ট্রাইব্যুনালসহ কেপিআই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েক জায়গায় বাসে আগুন ও কয়েকটি কটকেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এগুলো যাতে আর না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি এ সময় সব রাজনৈতিক দলকে অগ্নিসংযোগসহ সব ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী দেশে না ঢুকতে পারে এবং দেশের ভেতর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে।

এদিকে গতকাল বিকেলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে আতঙ্কের কিছু নেই, ভয়েরও কোনো কারণ নেই।

আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ না করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অপচেষ্টা করছে। টাকার বিনিময়ে ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গত অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকায় ১৪টি ঝটিকা মিছিলে অর্থায়ন ও অংশ নেওয়া অন্তত ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকায় অপরাধ খুবই নিয়ন্ত্রণে এবং তা সন্তোষজনক মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘১৩ তারিখ ঘিরে এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভয়েরও কোনো কারণ নেই। ঢাকাবাসীই নাশকতাকারীদের প্রতিহত করবে এবং তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা করবে।’

দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ: সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব বিমানবন্দরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার বেবিচক বিমানবন্দরগুলোকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠায়।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে সর্বোচ্চ মাত্রায় জোরদার করতে হবে।’ সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে নিরাপত্তার জন্য ওই চিঠিতে ১২ দফা নিরাপত্তা নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এ ছাড়া তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়।

কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহজাদপুরে এক ঘণ্টার কলম বিরতি পালন

0

গতকাল মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ নাহিদ ইসলাম, উপসহকারী কৃষি অফিসারবৃন্দসহ অত্র দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে অপরাধীদের অবশ্যই দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বিএনসিসির জন্য যোগ্য প্রশিক্ষক চান 

0

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘বিএনসিসির মাধ্যমে জাতীয় রূপান্তর’ শীর্ষক উপস্থাপনার পরে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। উপস্থাপনাটি পেশ করেন বিএনসিসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদ।সভায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিএনসিসির দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে বলেন, গুণগত প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই বিএনসিসির পক্ষে, কিন্তু আমাদের নজর দিতে হবে গুণগত মানে—বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য প্রশিক্ষক থাকতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের মনোযোগী হতে হবে এবং ভবিষ্যতমুখী ভাবনা নিতে হবে।’

অধ্যাপক ইউনুস আত্মমর্যাদা, শৃঙ্খলা ও অন্তর্ভুক্তিকে বিএনসিসির মূল মূল্যবোধ হিসেবে গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, বিএনসিসি মানে আত্মমর্যাদা ও শৃঙ্খলা। ক্যাডেটদের জন্য এমন একটি সনদপ্রদান ব্যবস্থা থাকতে হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, তাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনসিসি শুধু ছেলেদের জন্য নয়; মেয়েদের সমান অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বিএনসিসি নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে তরুণদের উন্নয়নকে জাতীয় রূপান্তরের মূলধারায় একীভূত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রস্তুত থাকার আহ্বান করলেন সেনাপ্রধান

0
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসের এএসসি সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (এএসসিসিএন্ডএস)-এ আর্মি সার্ভিস কোরের ৪৪তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে আর্মি সার্ভিস কোরের সব অধিনায়কদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাবাহিনী প্রধান কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় অবদানের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য আর্মি সার্ভিস কোরের সকল সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়াও আর্মি সার্ভিস কোরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেনাবাহিনী প্রধান এ কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

আর্মি সার্ভিস কোরের ৪৪তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে অভ্যর্থনা জানান জিওসি, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক); জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এবং কমান্ড্যান্ট, এএসসিসিঅ্যান্ডএস।

 

ইসি এবার চেম্বার আদালতে

0

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে চেম্বার আদালতে এ আবেদনটি করে ইসি।সোমবার (১০ নভেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহালে নির্দেশ দেন আদালত।

যদিও আদালতের এ রায় নিয়ে মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সাথে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বাগেরহাটের নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, রায়ের কপি এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে না আসলেও পরবর্তীতে ইসির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে যেন আপিল না করা হয়, এ বিষয়ে ইসিকে অনুরোধ জানাতে এখানে আসা হয়েছে। সিইসির সাথে বিষয়টি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি ‎করেন ‎বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ‎ওয়াহিদুজ্জামান দীপুসহ অনেকে।

এর আগে, সোমবার (১০ নভেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট অবৈধ ঘোষণা করে বাগেরহাটের সংসদীয় আসন চারটি বহাল রাখার নির্দেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট বিপ্লব কুমার পোদ্দার, অ্যাডভোকেট ফয়সাল মোস্তফা, অ্যাডভোকেট রাজিয়া সুলতানা।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইকরামুল কবির।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। ওই গেজেটে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসনে ভাগ করা হয় এবং পূর্বের সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়। এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের আসন পুনর্বিন্যাসের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জেলা ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করা হয়েছিল।

এই রিটে বাংলাদেশ সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়।

আসন কমানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ব্যানারে হরতাল, অবরোধ, অবস্থান, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, ইসির আসন পুনর্বিন্যাস গণমানুষের দাবিকে উপেক্ষা করেছে।

রায় ঘোষণার মাধ্যমে বাগেরহাটে ১৯৬৯ সাল থেকে চলে আসা চারটি সংসদীয় আসন বহাল রইল। পূর্বের সীমানা অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ ছিল চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট; বাগেরহাট-২ ছিল বাগেরহাট সদর-কচুয়া; বাগেরহাট-৩ ছিল রামপাল-মোংলা এবং বাগেরহাট-৪ ছিল মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা নিয়ে গঠিত।

 

সিলেট টেস্ট প্রথম দিন বাংলাদেশের

0

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সিলেটে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে ৯০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭০ রান তুলেছে আয়ারল্যান্ড।শেষ বিকেলে নতুন বল পেয়েও কোনো সুবিধা আদায় করতে পারছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। অষ্টম উইকেটে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়েছিলেন জর্ডান নেইল আর ব্যারি ম্যাককার্থি। এই জুটিকেই অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছিল। দিনের শেষ বলে নেইলকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সেই জুটি ভাঙ্গেন তাইজুল ইসলাম। নেইল ফেরেন ৬০ বলে ৩০ রান করে।

চা বিরতির পর নেইলসহ বাংলাদেশ শিকার করেছে ৪ উইকেট। ৬৪তম ওভারে কার্টিস ক্যাম্ফারকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম উইকেট শিকার করেন হাসান মুরাদ। স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯৪ বলে ৪৪ রান করেন তিনি।

তিন ওভার পরে আরেক সেটব্যাটার লকরান টাকারকেও ফিরিয়ে দেন হাসান মুরাদ। স্টাম্পিং হওয়ার আগে ৮০ বলে ৪১ রান করেন টাকার। এরপর অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ-লিটন জুটি। মিরাজের বলে সামনে এগিয়ে মারতে যান, বল ধরেই চোখের পলকে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটকিপার লিটন দাস।

এর আগে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ। রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নি।

সেই ধারা বজায় রেখে এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ এনে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু হতাশ করেন ফিল্ডাররা। চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ ওভারের মধ্যে তিনবার ক্যাচ ছাড়েন তারা। নাহিদ রানার করা চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে স্লিপে সহজ এক সুযোগ পেয়েছিলেন সাদমান ইসলাম। ডাইভ দিয়েও ধরতে পারেননি পল স্টার্লিংয়ের ক্যাচটি।

পরের ওভারে হাসান মাহমুদের করা চতুর্থ বলে পুল করতে গিয়ে টেস্ট অভিষিক্ত কারমাইকেল বল ভাসিয়ে দেন। স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা তাইজুল ইসলামের হাত ফসকায় সেই সুযোগটিও। এরপর ষষ্ঠ ওভারে আসে আরও এক সুযোগ। কিন্তু নাহিদ রানার করা ওভারের দ্বিতীয় বলে গালিতে পল স্টার্লিংয়ের ক্যাচ ছাড়েন মিরাজ।

বাংলাদেশের ক্যাচ মিসের মহরাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যাহৃভোজন বিরতির আগে ২৬ ওভারে ১ উইকেটে ৯৪ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। তবে বিরতির পরে আবারও আইরিশদের চেপে ধরে বাংলাদেশ।

লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দেন নাহিদ রানা। তার করা ২৭তম ওভারের তৃতীয় বলে সাদমানের হাতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন স্টার্লিং। ৭৬ বলে ৯ চারে ৬০ রান করেছেন তিনি। ফেরার আগে কারমাইকেলে সঙ্গে ৯৬ রানের জুটি গড়েন স্টার্লিং, যেটি টেস্টে দ্বিতীয় উইকেট আয়ারল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের জুটি।

এরপর চারে নামা হ্যারি টেক্টরকে দ্রুতই ফিরিয়ে দেন মিরাজ। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১ রান করেন টেক্টর।

হাফসেঞ্চুরি করা কারমাইকেলকে ফিরিয়ে আইরিশদের প্রতিরোধ ভাঙ্গেন মিরাজ। শান্তর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১২৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আয়ারল্যান্ড : ৯০ ওভারে ২৭০/৮ (বালবির্নি ০, স্টার্লিং ৬০, কারমাইকেল ৫৯, টেক্টর ১, ক্যাম্ফার ৪৪, টাকার ৪১, ম্যাকব্রাইন ৫, নেইল ৩০, ম্যাককার্থি ১৭*; হাসান মাহমুদ ১২-৪-৩২-১, নাহিদ ১৪-০-৬৫-১, তাইজুল ২১-৬-৭২-১, হাসান মুরাদ ২০-৫-৪৭-২, মিরাজ ২৩-৬-৫০-৩)

সাড়ে তিন মাস বাড়ল সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা 

0

আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য একই আদেশ জারি করা হয়েছিল।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২-এর অধীন অপরাধগুলো আমলে নিয়ে সারা বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

দেশে উদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাহিনীকে (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এরপর থেকে এ মেয়াদ পর্যায়ক্রমে বাড়াচ্ছে সরকার।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

0

আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় আসতে না পারায় এ বিষয়ে উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিতে পারে সরকার।

রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল সোমবার (১০ নভেম্বর) সে সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় আসেনি, এমনকি কোনো আলোচনায়ও বসেনি। এ অবস্থায় সরকার এখন নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে জানা গেছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত ২৭ অক্টোবর দুটো সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরপরই গণভোট, নোট অব ডিসেন্ট, পিআর পদ্ধতিসহ কয়েকটি বিষয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে চলে যায় বড় দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলগুলোকে নিজ উদ্যোগে সমঝোতায় পৌঁছাতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়; কিন্তু দলগুলো সমঝোতায় আসেনি। জামায়াতে ইসলামী আলোচনার ডাক দিলেও বিএনপি তাতে সাড়া দেয়নি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কোনো দল নয়, সরকার ডাকলে আলোচনায় অংশ নেবে তারা।

দলগুলোকে দেওয়া সময় শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আজ বৈঠকে বসছে উপদেষ্টা পরিষদ। তবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র দাবি করেছে, বৈঠকটি বিশেষ নয়। নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা তার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে যমুনায় আলোচনা করেন। এই বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকের অ্যাজেন্ডা চূড়ান্তকরণসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। তারই অংশ হিসেবে আজকের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। অনানুষ্ঠানিকভাবে সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, আজকের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও সাধারণত অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত থাকেন। এ ছাড়া প্রয়োজন সাপেক্ষে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর পরিষদের অন্যান্য উপদেষ্টাকে ডাকেন বলে জানা গেছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আলোচনার জন্য সরকারের বরাদ্দ করা সাত দিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নেই। জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবে।

জাতীয় নির্বাচন আর গণভোট একসঙ্গে করা বা আগে করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সরকার একসঙ্গে বসে সামষ্টিকভাবে এ সিদ্ধান্তটা নেবে। আপনাদের খুব দ্রুতই এটা আমরা জানিয়ে দেব।’ নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার কোনো সুযোগই আমার নেই। সরকারের অংশ হিসেবে আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। সরকার যখন বসবে, এ বিষয়ে আলোচনা করবে। আলোচনা করে যখন সিদ্ধান্ত হবে, তখন সেটা আপনারা জানবেন।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারির পাশাপাশি বাস্তবায়নে দুটো বিকল্প প্রস্তাব দেয় সরকারকে। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গণভোটের আগে সরকার জাতীয় সনদের ভিত্তিতে একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করবে, যা গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। ফলাফল ইতিবাচক হলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একযোগে এমপি ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা প্রথম অধিবেশন থেকে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করবেন; নির্ধারিত সময় পার হলে বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিলের কথা বলা নেই। এ ক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে গাঠনিক ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর ২৭০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার শেষ করবে ও এরপর পরিষদের কার্যক্রম শেষ হবে। দুটি প্রস্তাবেই সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম শেষ হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে পিআরের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

জিংকের অভাবে যে ধরনের সমস্যা হয়

0

জিংক শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় একটি মিনারেল। এটি মানবশরীরের কার্যক্রম ঠিক রাখার জন্য জরুরি উপাদান। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। লাল মাংস, গম, ওট ইত্যাদি খাবারে জিংক পাওয়াযায়। শরীরে জিংকের অভাব হলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। যেমন : একজিমা, র‍্যাশ ইত্যাদি। লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে শরীরের জিংকের অভাব হলে কী ধরনের সমস্যা হয় সেই কথা।

  • স্মৃতিশক্তির অভাব

জিংক আমাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বড় ভূমিকা পালন করে। জিংকের অভাব হলে এই কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং নিউরোলজিক্যাল পদ্ধতি ব্যাহত হয়। এটি শেখার অক্ষমতাও তৈরি করতে পারে।

  • রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমায়

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে জিংক একটি বড় ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাদের শরীরে জিংকের অভাব রয়েছে তারা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, ঠান্ডা এবং ফ্লুয়ের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়।

  • চুল পাতলা হয়ে যায়

চুল পড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ শরীরের জিংকের অভাব। এটি মাথার কোষগুলোকে দুর্বল করে দেয়। এতে চুল শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুল ভেঙে যেতে পারে। এতে চুল পাতলা হয়ে যায়।

  • ত্বকের সমস্যা

জিংকের অভাব হলে তা ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। এটি ব্রণ, একজিমা, সোরিয়াসিস, ত্বকের র‍্যাশ ইত্যাদি তৈরি করতে পারে। জিংক ত্বকের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে আল্ট্রাভায়োলেট রস্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়।

  • দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা

স্বাস্থ্যকর দৃষ্টিশক্তির জন্য জিংক খুব প্রয়োজন। এটি চোখের সুরক্ষা দেয় এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। গবেষণায় বলা হয়, জিংকের অভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।

  • হাড় দুর্বল করে

জিংক স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য জরুরি। এটি হাড়ের গঠনে উদ্দীপকের ভূমিকা পালন করে। জিংকের অভাবে হাড় দুর্বল হয় এবং গাঁটে ব্যথা হয়।

এবার ককটেল নিক্ষেপ করা হলো ঢাকার এক স্কুলে  

0

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাতিরঝিল এলাকার ইস্পাহানী বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের গেটের সামনে দুর্বৃত্তরা এই ককটেল নিক্ষেপ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক বার্তায় জানিয়েছে, সকালে ইস্পাহানী বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের গেটের সামনে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ডিএমপি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে, সোমবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দেওয়া হয় বাসে আগুনও।

 

Verified by MonsterInsights